প্রায় ২৭ বছর পর ৯/১১ মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে

প্রায় ২৭ বছর পর ৯/১১ মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে

মুক্তমন প্রতিবেদক : ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরুর নতুন সময় নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত। দীর্ঘ বিচার-পূর্ব আইনি জটিলতার কারণে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার বিচার ২০২৮ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সামরিক আদালতের বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল এ. স্ক্রামা এক লিখিত আদেশে জানিয়েছেন, মামলার বিচার শুরুর আগে সাক্ষ্যপ্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্যান্য বিচার-পূর্ব বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আরও সময় প্রয়োজন। এর আগে ২০২৭ সালের শুরুতে বিচার শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। আরেকটি বিমান আঘাত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে।

চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় ছিনতাইকারীদেরসহ মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন।

হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ ছিনতাইকারীর মধ্যে ১৫ জন সৌদি আরবের, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন লেবাননের এবং একজন মিসরের নাগরিক ছিলেন। তারা আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার বিরুদ্ধে বিমান ছিনতাই এবং নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় তার সঙ্গে অভিযুক্ত রয়েছেন ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী এবং মুস্তফা আল-হাওসাউই। তাদের বিরুদ্ধেও পৃথক বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীকে বর্তমানে কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় নেওয়া বক্তব্যসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। এসব বিচার-পূর্ব জটিলতার কারণেই মামলার বিচার বারবার পিছিয়েছে।

ফলে ৯/১১ হামলার প্রায় ২৭ বছর পর খালিদ শেখ মোহাম্মদের বহুল প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়েই বিচার শুরু হবে কি না, তা বিচার-পূর্ব আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।