পেনশনসহ স্বেচ্ছা অবসরের জন্য চাকরির বয়সকাল ১৫ করার প্রস্তাব

1738752575-4664431f4d924bcecddc3eacc01a9921
1738752575-4664431f4d924bcecddc3eacc01a9921

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে, ১৫ বছর চাকরি করলেই পেনশন সুবিধাসহ সরকারি কর্মকর্তারা স্বেচ্ছা অবসরে যেতে পারবেন এমন সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ বছর চাকরি করলে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সুযোগ পান তারা। অবসরের পর তারা পেনশন সুবিধা পান।

এছাড়া, সকল ক্যাডারের কর্মকর্তারা সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তি ও উপসচিব পদে পদোন্নোতির জন্য পরীক্ষা দেবেন। উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডার থেকে ৫০% এবং অন্যান্য ক্যাডার থেকে ৫০% পদ পূরণ করা হবে।

বর্তমানে পরীক্ষা ছাড়াই উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের ৭৫% এবং অন্যসব ক্যাডার থেকে ২৫% কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।

তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম ২৫ বছরে অবসরে যাওয়ার একটি বিধান আছে, এটি উঠিয়ে দিয়ে ১৫ বছরের পর অবসরের আবেদন করার বিধান করার জন্য বলা হয়েছে।”

আজাদ মজুমদার জানান, উপসচিব পদে এখন যারা নিয়োগ পান তাদের মধ্যে ৭৫% পায় প্রশাসন ক্যাডার থেকে। এটা কমিয়ে ৫০% নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপিরিয়র সার্ভিসের জন্য আলাদা পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে এবং সুপিরিয়র সার্ভিসের অন্তত ৫% চাকরি যাতে বাইরে থেকে নেওয়া যায়, এরকম একটা সুপারিশ সংস্কার কমিশন করেছে।

তিনি বলেন, “অনেক মেধাবী আছেন, যারা বিসিএস দেন না বা সরকারি চাকরিতে ক্যারিয়ারের শুরুতে যুক্ত হন না, পরবর্তী সময়ে জীবনে তারা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। সরকার চাইলে যাতে এই ধরনের ব্যক্তিকে প্রশাসনে যুক্ত করতে পারে, এজন্য ৫% চাকরি প্রশাসনের বাইরে থেকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে পৃথক করে তিনটি আলাদা পাবলিক সার্ভিস কমিশন করার কথা বলা হয়েছে। একটি কমিশন সাধারণ যারা নিয়োগ পাবেন তাদের জন্য এবং আরেকটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারে যারা নিয়োগ পাবেন তাদের জন্য আলাদা আলাদা পাবলিক সার্ভিস কমিশন করার সুপারিশ করা হয়েছে।”

আজাদ মজুমদার বলেন, “মন্ত্রীর একান্ত সচিব নিয়ে একটা সমস্যা হয় যে, প্রশাসনিক ক্যাডারের যেসব কর্মকর্তা মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান, তারা পরবর্তী কর্মজীবনে সমস্যায় পড়েন। এজন্য এটি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, মন্ত্রীরা তাদের পছন্দের লোক এই পদগুলোতে সরকারের বাইরে থেকে নিয়োগ দেবেন।”