প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমও এক শোকবার্তায় জানান, ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে ন্যাপ, আওয়ামী মুসলিম লীগ, জাগদল হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। আইনমন্ত্রী হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের আইন প্রণয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।

একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই রাজনীতিক শিক্ষা বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট। এছাড়া আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে তাঁর একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নূর আখতারের স্বামী ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁর স্ত্রী মারা যান। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র রেখে গেছেন।

প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।