নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও আস্থাশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, কর কাঠামোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে স্মার্ট ডিভাইস নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন উৎপাদন ও প্রযুক্তি শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে স্মার্ট ডিভাইস উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের প্রথম সচিব লি নামসু এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার জাংমিন জং উপস্থিত ছিলেন।