বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন স্পেন

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক : শুরুটা ছিল হতাশার। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্পেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে লা রোজারা। একের পর এক জয় তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছে গোলপোস্ট অক্ষত রেখে। আর শিরোপার লড়াইয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল স্পেনের। ১২০ মিনিটে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনাকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখে তারা। বিপরীতে আলবিসেলেস্তেরা পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে লক্ষ্যে কোনো শট না নেওয়া প্রথম দল হলো আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অসাধারণ পারফরম্যান্সই ম্যাচকে নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিয়ে যায়। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি স্পেনকে দীর্ঘ সময় গোলবঞ্চিত রাখেন। তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা।

প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট ছিল স্পষ্ট। ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা আর্জেন্টিনার ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে। প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পেন লক্ষ্যে দুটি শট নেয়, যেখানে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি। পাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে।

৩৯ মিনিটে দারুণ আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে স্পেন। তবে বক্সের প্রান্ত থেকে ওয়ারজাবালের জোরালো শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। এর কিছুক্ষণ পর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র অব্যাহত থাকে। স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক মার্টিনেজের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না। পেদ্রি, ওলমো, লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসরা একাধিক সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু প্রতিবারই আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরী বাধা হয়ে দাঁড়ান।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপরও স্পেনের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকে আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেনের জালে বল জড়ালেও ফাউলের কারণে নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিল হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পরও রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনকে আর আটকে রাখা যায়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস।

গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ১১৩ মিনিটে তোরেস আবারও গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি-কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে নেয় লা রোজারা। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে আবারও পরাজয়ের স্বাদ পেল আর্জেন্টিনা।