মার্কিন চাপের অংশ হলে ব্যবস্থা, প্রতিবেশীদের ইরানের সতর্কবার্তা

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তা
মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তা

মুক্তমন রিপোর্টার : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের অভিযানে প্রতিবেশী কোনো দেশ অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থানের কথা জানান দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে না জড়ানো। কোনো দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে অবস্থান নিলে তেহরান তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরান কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সে বিষয়ে একটি তিন ধাপের কৌশলের কথা জানান রেজাই।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর কূটনৈতিকভাবে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হবে। কারণ সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চায় না তেহরান।

তবে কোনো দেশ এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবস্থান বজায় রাখলে তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দেওয়া হবে। এরপরও অবস্থান পরিবর্তন না করলে ইরান ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের এই হুঁশিয়ারির আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দেন। গত বুধবার তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর কথা জানান।

ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোকেও অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। পরদিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও মিত্র ও অন্যান্য দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়ার চাপের কথা জানান।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।

রেজাই সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে অংশ নেয়, তাহলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলোও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।

একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অতিরিক্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের কয়েকটি মিত্র দেশও ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে।