মুক্তমন রিপোর্ট: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, হালাল মাংস এবং অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার H.E. Mohd Shuhada Othman সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় উঠে আসে।
সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় হালাল মাংস রপ্তানির সম্ভাবনা, প্রাণিজ পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মালয়েশিয়ায় রপ্তানির সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এ লক্ষ্যে প্রাণিস্বাস্থ্য সনদ, হালাল সার্টিফিকেশন, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মানদণ্ড পূরণ এবং বাজার সম্প্রসারণে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া মাছ, মাংস, দুধসহ অন্যান্য প্রাণিজ পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পায়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার H.E. Mohd Shuhada Othman বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলসহ সম্ভাবনাময় প্রাণিজ পণ্য এবং কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়া হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি Mr. Hazwan Hasnol উপস্থিত ছিলেন।