মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার ও ইতিহাসের অমীমাংসিত প্রশ্ন

মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার ও ইতিহাসের অমীমাংসিত প্রশ্ন

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম : ইতিহাসের কিছু অধ্যায় সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে যায় না; বরং নতুন কোনো ঘটনার সূত্র ধরে আবারও জনপরিসরে ফিরে আসে। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তারের ঘটনাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় এখনো জনমনে আলোচনার বিষয়, সেগুলোর আরও কোনো দিক কি সামনে আসতে পারে?

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ঘটনাটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীকালে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মহলে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, বিশ্লেষণ ও বিতর্ক বিদ্যমান রয়েছে।

লেখকের মতে, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পলাতক থাকার পর মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তার তদন্তকারী সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি মনে করেন, এ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অতীতের কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

লেখক আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সময়ে মোজাফফরের দীর্ঘ আত্মগোপন, বিদেশে অবস্থান এবং দেশে ফিরে ভিন্ন পরিচয়ে বসবাসের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান হওয়া উচিত। এসব তথ্য যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

এ প্রেক্ষাপটে লেখকের অভিমত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে রাষ্ট্র চাইলে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন বা বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে পারে। তার মতে, বিচারিক নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য, রাষ্ট্রের সংরক্ষিত নথি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসের বিতর্কিত বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার করা সম্ভব।

লেখক মনে করেন, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ। তবে সেই অনুসন্ধান অবশ্যই সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং ন্যায়বিচারের নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়; বরং আইনের শাসন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

সর্বশেষে লেখক আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিচারপ্রক্রিয়াধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায়ও একসময় সত্য উদঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তার মতে, বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সত্য অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা উচিত।

লেখক:

ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র

চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট

চেয়ারম্যান, ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)

নির্বাহী পরিচালক, জিয়া ইন্টারন্যাশনাল একাডেমী (জিয়া)

সম্পাদকের নোট: এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত ও বিশ্লেষণ সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব। এখানে উত্থাপিত মতামত ও দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় এবং পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলনও নয়।