মুক্তমন রিপোর্টার : আজ ২৫ আগস্ট ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মিছিল, শোভাযাত্রা, পথসভা, আলোচনা সভা ও সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দিবসটি ঘিরে ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখা গেছে।
রোহিঙ্গা নেতাদের ভাষ্য, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হবে।
রোহিঙ্গা নেতারা জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯৯১-৯২ সালেও মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব রোহিঙ্গার টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে তাদের বড় একটি অংশ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে।
প্রতি বছর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে সংঘটিত সহিংসতায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এবারও ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও রোহিঙ্গা নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছেন।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবারের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
এদিকে দিবসটিকে কেন্দ্র করে আশ্রয়শিবিরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
রোহিঙ্গা নেতাদের প্রত্যাশা, ২৫ আগস্টের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।