সিলেট প্রতিনিধি: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দান ব্যবস্থাপনা, মানতের অর্থ ও সম্পদ পরিচালনা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি দানবাক্স খুলে ২৫ দিনে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং মানতের পশু পাওয়ার পর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি মাজারের দানবাক্সগুলো খুলে গণনা করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দফায় চার দিনের সংগ্রহে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে দ্বিতীয় দফায় ১৯ দিনের সংগ্রহে পাওয়া যায় আরও ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, মানতের চিঠি এবং ৬৫টি ছাগলও পাওয়া যায়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, অতীতে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় কোনো সুসংগঠিত হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্সগুলো সিলগালা করে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং দর্শনার্থীরা অভিযোগ করেছেন, দানের অর্থ, মানতের পশু এবং অন্যান্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম হয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
সাবেক জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম দাবি করেন, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের বাইরে কিছু অর্থ সরাসরি সংগ্রহ করা হতো, যার কারণে দানবাক্সে প্রত্যাশিত পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে।
মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, মাজারে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, মাজারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করা হবে।
এদিকে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মাজারের বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মাজারের দান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।