মুক্তমন প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও সংসদীয় চর্চাকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ এবং কার্যকর করতে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এ লক্ষ্যে নতুন গবেষণা নীতিমালার আলোকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গবেষকদের কাছ থেকে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ গবেষণা কমিটির প্রথম সভায় সংসদীয় ব্যবস্থার সংস্কার ও সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর গবেষণা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাঈদ আল নোমান এমপি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, মহাপরিচালক আ.ন.ম. খলিলুর রহমান খান, পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. নাজমুন হক, উপসচিব মো. ফয়সল মোর্শেদ, উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান এবং উপপরিচালক মো. আলী আকবর উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শুরুতে কমিটির সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে জাতীয় সংসদের গবেষণা বরাদ্দ এবং গবেষণা নীতিমালার আলোকে গবেষণা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
গবেষণার প্রস্তাব আহ্বানের জন্য একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
একই সঙ্গে সংশোধিত গবেষণা নীতিমালার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গবেষণার বিষয় নির্বাচন এবং প্রস্তাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
অগ্রাধিকার পাওয়া বিষয়গুলো হলো—
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কার্যকর সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা: বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সংস্কারের রূপরেখা।
- পোস্ট লেজিসলেটিভ স্ক্রুটিনি: বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো।
- জনগণের সঙ্গে সংসদের সংযোগ: বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের উপায়।
- পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের কার্যকারিতা।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে আরও প্রাসঙ্গিক ও তথ্যভিত্তিক গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।