মুক্তমন রিপোর্টার : সব ধর্ম ও মতের মানুষ যেন নিজ নিজ জায়গা থেকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষই ধর্মপ্রাণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের শিক্ষা ধারণ ও অনুসরণ করলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামীম কায়সার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ধর্মীয় মূল্যবোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই বিএনপি মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে একটি সংগঠনের দেওয়া বিবৃতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামীম কায়সার বলেন, কোনো নির্বাচনে একটি দলকে শতভাগ মানুষ ভোট দেয় না। মানুষের পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। একইভাবে কোনো নিয়োগের বিষয়েও সবাই একমত হবেন—এমনটি স্বাভাবিক নয়।
তিনি বলেন, অনেক সময় সরাসরি কোনো বিষয় পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে বা খণ্ডিত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। যোগাযোগ ও আলোচনার পরিমাণ বাড়লে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দূর করা সম্ভব হবে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি আগের দিন জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত ছিল। আলোচনা শেষে তিনি তাদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন এবং তারা তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
শামীম কায়সার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মতের প্রথিতযশা আলেমদের সহাবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে। শুধু ইসলাম ধর্মের নেতৃবৃন্দ নয়, অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতা ও গুরুজনদের কাছেও তিনি যাবেন। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করা হবে।
মতবিনিময় সভায় ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।