সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই

উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন
উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন

মুক্তমন রিপোর্ট : রাজধানীর উত্তরায় পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই পেশাদার অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা রয়েছে।

তবে এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ডিবি জানিয়েছে, পলাতক ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে চারটি ৭.৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, ছিনতাই হওয়া ১২ লাখ টাকা, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকি-টকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বরের গাড়ির নম্বর প্লেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া টাকা চক্রের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। মূল সদস্যরা তুলনামূলক বেশি টাকা পেয়েছে। অন্যরা যে ধরনের সহযোগিতা করেছে, সে অনুযায়ী তাদের মধ্যে টাকা ভাগ করা হয়।

গত ৯ আগস্ট সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান ও কাভার্ডভ্যানচালক খোরশেদ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ থেকে ৭ জন তাদের কাভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে। অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করার পর আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে পোস্তগোলা এলাকা থেকে লুট হওয়া আরও ৯ লাখ টাকাসহ সাগর বাড়ৈকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচজনের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে ডিবি।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সাগর বাড়ৈর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি একজন পেশাদার অপরাধী এবং একই কায়দায় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ডিবি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সরাসরি ঘটনায় জড়িত আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা গেলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

পলাতক মূলহোতাসহ অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার না হওয়া টাকা উদ্ধারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।