আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, কৌশলগত এ জলপথে সামুদ্রিক চলাচলে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জানান, শুক্রবার ও শনিবার তেহরানে ইরান ও ওমানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে উভয় দেশের মধ্যে অভিন্ন নীতি ও কার্যকর পরিচালনাগত (অপারেশনাল) ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বাঘায়ির ভাষ্য, আলোচনা ছিল "ফলপ্রসূ" এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওমানের প্রতিনিধি দল তেহরান ত্যাগ করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়।
উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাবে কমেছে হুন্ডি ও হাওয়ালার বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ
অন্যদিকে, দীর্ঘায়িত উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে দুবাইভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হুন্ডি ও হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রগুলো জানায়, প্রতি বছর শত শত যাত্রী আনুষ্ঠানিক রপ্তানি তালিকার বাইরে থাকা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে দুবাই যেতেন। স্থানীয়ভাবে এসব বহনকারীকে "খাপিয়া" নামে পরিচিত। প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে এই অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে দেশের ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক ও উৎপাদন খাতেও। একজন সূচিশিল্প পণ্য প্রস্তুতকারক জানান, আগে তার কারখানার পণ্য দুবাইয়ের বাজারে রপ্তানি হতো। বর্তমানে সেই বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে শুধু দেশীয় বাজারের জন্য কাজ করতে হচ্ছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে অনানুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ, ক্ষুদ্র রপ্তানি এবং দেশীয় উৎপাদন খাতের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।