মুক্তমন রিপোর্ট : ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের দুঃসময় যেন কাটছেই না। লিডস ও লর্ডস টেস্টে হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছে তারা। এবার এজবাস্টন টেস্টেও বড় বিপদের মুখে পড়েছে শান মাসুদের দল। দ্বিতীয় দিন শেষে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে পাকিস্তান।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান করে। এতে ৩২০ রানের বিশাল লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫২ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনো তাদের করতে হবে ২৬৮ রান।
তবে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের সাম্প্রতিক দুর্দশা বিবেচনায় এই লক্ষ্য পেরিয়ে ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানো কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। তৃতীয় দিনে তাই শান মাসুদদের সামনে বড় পরীক্ষা।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের শুরুটা হয় ভয়াবহভাবে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ শফিক।
ওলি রবিনসনের প্রথম বলেই দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইম আইয়ুব। মাত্র তিন বল পরই ক্যাচ দিয়ে আউট হন আবদুল্লাহ শফিক। দুজনের কেউই রান করতে পারেননি।
এরপর আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ মিলে ৫২ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। আজান ২৯ ও শান মাসুদ ২১ রানে অপরাজিত আছেন।
চলতি সিরিজে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটির ব্যর্থতাও বেশ স্পষ্ট। ছয় ইনিংসে তাদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে ০, ০, ৫, ৭, ৮ ও ০ রানে। অর্থাৎ কোনো ইনিংসেই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেনি ওপেনিং জুটি।
দ্বিতীয় দিন ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫৩ রানে। পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আধিপত্য দেখিয়ে ইংল্যান্ডের পাঁচ ব্যাটার ফিফটির দেখা পান।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন হ্যারি ব্রুক। ৯৭ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ছয়টি চার। জেমি স্মিথ ৮৪ বলে নয়টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৬৯ রান। ড্যান লরেন্সের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ এবং এমিলিও গে করেন ৬০ রান।
নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাট হাতে চমক দেখান ওলি রবিনসন। ৪৭ বলে একটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৫০ রান করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এটি রবিনসনের দ্বিতীয় ফিফটি।
পাকিস্তানের হয়ে অভিষিক্ত পেসার রাজাউল্লাহ সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ ইমরান ও মোহাম্মদ আলি নেন দুটি করে উইকেট।
আবদুল্লাহ শফিকের ক্যাচ নেওয়ার মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট। উইকেটকিপার ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার এখন তিনি।
শফিকের ক্যাচটি ছিল রুটের টেস্ট ক্যারিয়ারের ২২০তম ক্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথকে ছাড়িয়ে গেছেন। স্মিথের ক্যাচ সংখ্যা ২১৯।
বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। ফলে তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ ইনিংস পরাজয় এড়ানো। সাম্প্রতিক ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ভেঙে তারা ম্যাচে ফিরতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।