নোয়াখালীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

 সুবর্ণচরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন
সুবর্ণচরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন

গিয়াস রনি : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, বন্ধক নেওয়া তাঁর ৩০ শতক জমি দিদারুল আলমের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করেছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।

একই এলাকার নুরজাহান অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে কেন্দ্র করে তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিলেও দিদারুল আলম ও তাঁর সহযোগীরা আবারও টাকা দাবি করছেন।

আমেনা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে তাঁরা বসবাসের উপযোগী করে জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু দিদারুল আলম ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায়ও বিচার দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক মাঝিও দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দিদারুল আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতির বিরুদ্ধে হওয়া একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপর উপজেলা যুবদলের সভাপতির অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি

Muktomon/TA