গোপালগঞ্জে চুরির অপবাদে দুই নারীকে মারধর, ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ২

গোপালগঞ্জে চুরির অপবাদে দুই নারীকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জে চুরির অপবাদে দুই নারীকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার

শিহাব উদ্দিন : গোপালগঞ্জ শহরের ব্যস্ত কাপড়পট্টি এলাকায় দুই নারীকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বস্ত্র ব্যবসায়ীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ বস্ত্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিটু শিকদারএলিট ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী নিয়ামুল। ভুক্তভোগী নারী তৃশা বেগমের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে তৃশা বেগমসহ দুই নারী কাপড় কেনার জন্য গোপালগঞ্জের কাপড়পট্টিতে যান। একটি দোকানে কাপড় দেখার পর পছন্দ না হওয়ায় তাঁরা কিছু না কিনেই সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

তৃশা বেগমের অভিযোগ, দোকান থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী তাঁদের পথ আটকে দেন। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং চুরির অপবাদ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ করা হয়। পরে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, ব্যাগে জোর করে কাপড় ঢুকিয়ে তাঁদের চোর হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুই নারীকে আটকে রাখার পাশাপাশি ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর তৃশা বেগম মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযান চালিয়ে রিটু শিকদার ও নিয়ামুলকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের তদন্তে দুই নারী কোনো দোকান থেকে কাপড় নিয়েছিলেন কি না, তাঁদের আটকে রেখে মারধরের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ব্যাগে কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া কাউকে চুরির অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তবে মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

Muktomon/TA