মুক্তমন রিপোর্ট : রাজধানীর দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুর জামতলা এলাকায় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের দেয়াল ভেঙে বেআইনিভাবে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মসজিদের দেয়াল ভাঙার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই রাজমিস্ত্রিকে আটক করেন বলে জানা গেছে। পরে দক্ষিণখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজমপুর জামতলা এলাকায় তিনতলা বায়তুল মামুর জামে মসজিদটি প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের উত্তর পাশের একাংশের জমি নিজের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে মো. ফিরোজ মিয়া দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর।
মসজিদ কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে ফিরোজ মিয়ার নির্দেশে একদল লোক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের মূল দেয়াল ভাঙতে শুরু করে।
দেয়াল ভাঙার শব্দ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজমিস্ত্রি মো. হানিফ ও মো. রিপনকে আটক করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফিরোজ মিয়ার নির্দেশে দেয়াল ভাঙার কাজ করছিলেন বলে জানায় বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, সম্প্রতি সাবেক মসজিদ কমিটির কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ফিরোজ মিয়া বেআইনিভাবে নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বর্তমান কমিটির নেতারা। বিষয়টি নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে আগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
পরে গত ৪ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে ১১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান লিটনকে আহ্বায়ক এবং শেখ মাসুম হায়দারকে সদস্য সচিব করা হয়।
নতুন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান লিটন ও সদস্য সচিব শেখ মাসুম হায়দার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে ফিরোজ মিয়ার লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।