মুক্তমন রিপোর্টার : রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারানোর অভিযোগ করেছেন মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ রোকেয়া খাতুন। প্রায় ১৫ বছর চাকরি করার পর ২০২৫ সালের ২২ মে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে চাকরিতে পুনর্বহাল ও পেশাগত অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকা।
সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে রোকেয়া খাতুন এসব অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি জানান, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার কারণে তাকে ‘অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা জিনাত ফারহানা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
চাকরি হারানোর পর পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন বলে জানান রোকেয়া খাতুন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিতে যোগদানের অনুমতি দেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক সেই নির্দেশ অমান্য করে তাকে কাজে যোগ দিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের পরিচালনা ও শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন রোকেয়া খাতুন।
অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা জিনাত ফারহানার বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমীর বিরুদ্ধে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি অভিযোগপত্রের সঙ্গে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে রোকেয়া খাতুন উল্লেখ করেন, চাকরি হারানোর পর থেকে পরিবার নিয়ে তিনি আর্থিক ও মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না করে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক পদে পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।
রোকেয়া খাতুন বলেন, “আমি ন্যায়বিচার ও আমার পেশাগত অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
রোকেয়া খাতুনের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে চাকরি থেকে অব্যাহতির কারণ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় যোগদানের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং দেওয়া হয়ে থাকলে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি কেন—এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।