মুক্তমন রিপোর্ট : করতোয়া নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ১ হাজার ১১২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অথচ নদীটির তীরেই প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে প্রায় ২০০ টন বর্জ্য। বগুড়া সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাঘোপাড়ায় নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার বাঘোপাড়ায় করতোয়া নদীর তীরে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ জমেছে। সিটি করপোরেশনের ট্রাক থেকে বর্জ্য নামানোর পর এক্সকেভেটর দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নদীর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। গৃহস্থালি ও নগর বর্জ্যের পাশাপাশি সেখানে চিকিৎসাবর্জ্যও দেখা গেছে। তবে এসব চিকিৎসাবর্জ্য কারা বা কোন প্রতিষ্ঠান ফেলছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বৃষ্টির সময় বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল নদীতে মিশে পানির গুণগত মান আরও খারাপ করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
করতোয়া নদীর দখল ও দূষণ রোধ এবং নদীটির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে চলতি বছরের ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নদীর তীরে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার ঘটনায় প্রকল্পটির সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু নদী খনন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই নদীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। বর্জ্য ফেলার উৎস বন্ধ করা, পরিবেশসম্মত ডাম্পিং স্টেশন তৈরি এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় বর্জ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা ও অপসারণের বিধান রয়েছে। কিন্তু বগুড়ায় স্থায়ী ও পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না থাকায় নদীর তীরই বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে।
এর আগে নদীদূষণ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরও সতর্ক করেছিল। ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বগুড়া পৌরসভাকে নদীদূষণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, তাদের ময়লা ফেলার নিজস্ব জায়গা নেই। ডাম্পিং স্টেশন চালুর জন্য ইতোমধ্যে দুই থেকে তিনটি জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জায়গা কিনে সেখানে বর্জ্য ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ডাম্পিং জোন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২৪টি ট্রাকে করে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য বাঘোপাড়ায় ফেলা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকায় বর্জ্য নদীতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একসময় বগুড়ার গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি করতোয়া বর্তমানে দখল, দূষণ, বর্জ্য ফেলা ও পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে অস্তিত্বসংকটে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নদীটিকে বগুড়ার ফুসফুসও বলা হয়।
নদী পুনরুদ্ধারের প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে করতোয়ার দূষণ কমানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
Muktomon/TA