মুক্তমন রিপোর্ট : রংপুরের পীরগঞ্জে অবৈধভাবে ভেজাল সার তৈরির অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ সময় ইটের গুঁড়া, মাটি, ডিমের খোসাসহ সার তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের ১ হাজার ১২৭ বস্তা জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কালশারডাড়ায় মেসার্স মোখলেছুর রহমান ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকীউল বারীর নেতৃত্বে অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) রাসেল রানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সার ও কীটনাশক ব্যবসার আড়ালে প্রতিষ্ঠানটিতে ভেজাল টিএসপি, ডিএপি, পটাশ ও জিপসাম সার তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব সার বিভিন্ন নামী-দামি কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো বলে দাবি প্রশাসনের।
অভিযানের খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোখলেছুর রহমান, তার ছেলে মায়বুল ইসলাম বাবুলসহ অন্যরা পালিয়ে যান বলে জানায় প্রশাসন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভেজাল সার তৈরির উপকরণ, খালি বস্তা ও বিভিন্ন কোম্পানির খালি মোড়ক জব্দ করা হয়।
জব্দ করা উপকরণের মধ্যে রয়েছে ইটের গুঁড়া, মাটি, ডলোমাইট চুন, ডিমের খোসা, পাথুরে চুন ও ম্যাগনেসিয়ামসদৃশ পদার্থসহ ১৭ ধরনের উপাদান। এগুলো পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, জব্দ করা উপকরণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ব্যবহার করে ভেজাল সার তৈরি করা হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর উপকরণগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা জানান, শুক্রবার রাতে কালশারডাড়া বাজারের কাছাকাছি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবারের অভিযানে পুলিশ সহযোগিতা করে।
জব্দ করা উপকরণ রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হকের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
Muktomon/TA