১৬ দেশের ৫৮ কোম্পানি ও ১৩২ ব্র্যান্ড নিয়ে তিন দিনের আন্তর্জাতিক আয়োজন

আজ শুরু কসমেটিকা ঢাকা, সহযোগিতায় রিমার্ক-হারল্যান

আজ শুরু কসমেটিকা ঢাকা, সহযোগিতায় রিমার্ক-হারল্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’। দেশের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার শিল্পের এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার প্রতিষ্ঠান রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপ

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর হল নং-৪-এ শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৫৮টি কোম্পানি ও ১৩২টি ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করছে।

সকালে কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। অনুষ্ঠানে কসমেটিকস শিল্পের বিভিন্ন শীর্ষ কোম্পানির কর্মকর্তা এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান, বিনিয়োগ এবং নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬-এর সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস বলেন, বাংলাদেশের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ শিল্পকে শুধু দেশীয় বাজারকেন্দ্রিক না রেখে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে এমন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কসমেটিকা ঢাকা বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করছে। দেশের উৎপাদক ও ব্র্যান্ডগুলো এখানে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণেই এ আয়োজনের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হতে পেরে রিমার্ক-হারল্যান গর্বিত।

দেশের অন্যতম বৃহৎ অথেনটিক রিটেইল কসমেটিকস চেইন হারল্যান স্টোরের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে শুরু থেকেই কাজ করছে রিমার্ক-হারল্যান।

তিনি বলেন, দেশের শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে প্রতিষ্ঠানটি কসমোপ্রফ থাইল্যান্ড, কসমোপ্রফ ইন্ডিয়া, দুবাই ডার্মা ও মালয়েশিয়ার মিহাসসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া নিওর ব্র্যান্ডের চিফ বিজনেস অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীর সহযোগী হওয়ার পাশাপাশি রিমার্ক এইচবি লিমিটেড কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬-এ বড় পরিসরে একটি প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, রিমার্কের প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, প্যাকেজিং, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার সক্ষমতা তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিমার্কের অথেনটিক রিটেইল কসমেটিকস চেইন হারল্যান স্টোরের সমন্বয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত রপ্তানিমুখী বিভিন্ন পণ্যও প্রদর্শন করা হচ্ছে।

রিমার্ক-হারল্যানের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে শুধু কসমেটিকসের আমদানিনির্ভর বাজার হিসেবে না রেখে মানসম্মত ও রপ্তানিমুখী কসমেটিকস উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

তিনি বলেন, কসমেটিকা ঢাকা শিল্পের উৎপাদক, ব্র্যান্ড, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের সম্ভাবনা আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

রিমার্ক-হারল্যান সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাক্টিস (জিএমপি)’ সার্টিফিকেশন অর্জন করে। বর্তমানে রিমার্কের আধুনিক উৎপাদন কার্যক্রম cGMP, ISO ও Halal মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য বর্তমানে দেশের বাজারের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও লিলি, নিওর ও সিওডিলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬ শুধু পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি পরিচিতি এবং শিল্পসংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ উপস্থাপনা, প্রশিক্ষণ সেশন, শিল্পভিত্তিক আলোচনা এবং জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রবেশমূল্যের প্রয়োজন হবে না। অনলাইনে নিবন্ধনের পাশাপাশি প্রদর্শনীর ভেন্যুতেও সরাসরি নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি চিত্রাঙ্গনের মডেল ও তারকা, সৌন্দর্যপ্রেমী, মেকআপ শিল্পী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।