ডুমুরিয়ায় ইউআরসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ডুমুরিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইউআরসি কর্মকর্তা মোসলেম আলী
ডুমুরিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইউআরসি কর্মকর্তা মোসলেম আলী

মুক্তমন রিপোর্টার : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইনস্ট্রাক্টর ও খর্নিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মোসলেম আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. মোসলেম আলী খুলনা দৌলতপুরের কেদারনাথ এলাকার মৃত মেয়াজান গাজীর ছেলে। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের মেছাঘনা গ্রামের শেখ বাড়িতে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, শ্বশুরবাড়ির এলাকা হওয়ায় মোসলেম আলী স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে ফেরত পাঠানো এবং সেবা পেতে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খর্নিয়া ইউনিয়নের রানাই গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম ও রমিছা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদসহ সাধারণ সেবা নিতে গিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় কাজ না করেই বিভিন্ন অজুহাতে ফেরত পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, সাধারণ নাগরিক হিসেবে তারা যেন হয়রানি ছাড়া সরকারি সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও মোসলেম আলী প্রায়ই রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে খর্নিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক ও ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর মো. মোসলেম আলীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউআরসির দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস সবিতা সরকার বলেন, জনসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা হয়রানির সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করা কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।