মুক্তমন রিপোর্টার : এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী কর্মসূচিতে স্কাউট, বিএনসিসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার, বিডিক্লিন এবং দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে বিএনসিসি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, রোভারসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্রায় ৫০০ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নির্ধারিত স্থানেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
উদ্বোধনী কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা ও মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির প্রচার এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য বিভাগ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, এ সময়ে এডিস মশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পাওয়া তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত পরশু পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে কিছু রোগী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, রেড অ্যালার্ট জারি করা উপজেলা ও জেলার প্রত্যেক হাসপাতালে আলাদাভাবে পাঁচটি করে ডেঙ্গু রোগীর বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এবং এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।