টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

সিউলে GICC ২০২৬ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
সিউলে GICC ২০২৬ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

মুক্তমন রিপোর্ট : টেকসই, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেরও অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কো-অপারেশন কনফারেন্স (GICC) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় (MOLIT) আয়োজিত এবং ইন্টারন্যাশনাল কনট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (ICAK)-এর ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য—‘Cooperation on Global Infrastructure Projects Opened by AI’

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা, অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠান, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সহনশীল, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শুধু অর্থায়ন নয়, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সমন্বিত, দক্ষ, নিম্ন-কার্বন ও জলবায়ু-সহনশীল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও অর্থায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম জানান, বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে Government-to-Government (G2G) সহযোগিতা, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI), সহজ শর্তের অর্থায়ন এবং Public-Private Partnership (PPP)-এর মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী।

একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অবকাঠামো খাতের নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে বাংলাদেশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

GICC ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Muktomon/TA