মুক্তমন রিপোর্ট : বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে জাতীয় কৃষক শক্তি। সংগঠনটি সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিএলআরআইয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। মেহেদী হাসান মুন্নার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জাতীয় কৃষক শক্তির সংগঠক আলম হাসান, ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলকারনাইন এবং জাতীয় যুব শক্তি ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শুভ।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। তিনি বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, ২০২৫ সালে বিএলআরআইয়ের গবেষণার জন্য রাখা ১৩টি মোরগ চুরির খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৩ সালেও একই শেড থেকে ৩৮টি মোরগ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। গবেষণার উপকরণ চুরি হলে গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএলআরআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানাকে ঘিরে নিয়োগ, প্রকল্প ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। নাসরিন সুলতানার সাময়িক বরখাস্ত ও পরবর্তী পুনর্বহালের প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্তের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বিএলআরআইয়ের উৎপাদিত বিশেষ হ্যাচিং ডিম বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবেদন, বরাদ্দ ও বিতরণের তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়। বক্তাদের অভিযোগ, অনলাইন আবেদনের ক্রমানুসারে প্রান্তিক খামারিদের ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও পছন্দের ব্যক্তিদের একাধিকবার ডিম সরবরাহ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদের দায়িত্ব ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়। বক্তারা প্রাণিস্বাস্থ্য গবেষণা, জিএইচএসএ, উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব বাজেটের আওতায় কেনা রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি এবং ল্যাবরেটরি সামগ্রীর হিসাব ও ইনভেন্টরি যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত উন্নয়ন গবেষণা প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয় ও অর্জনের তথ্য প্রকাশের দাবিও তোলা হয়। একই সঙ্গে উটপাখি প্রকল্পের বরাদ্দ, প্রাণী আমদানি, মৃত্যু, জবাই ও বর্তমান সংখ্যা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে সরকারি নথি প্রকাশের আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা বলেন, উটপাখির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা জানতে সরকারি রেজিস্টার, ক্রয় নথি, ভেটেরিনারি রেকর্ড, পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন ও ইনভেন্টরি যাচাই করা প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে বিএলআরআইয়ের চলমান ও সমাপ্ত বড় প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, ব্যয় ও অর্জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অডিট আপত্তির সংখ্যা ও আর্থিক পরিমাণ, প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়ি ও সরঞ্জামের বর্তমান অবস্থান এবং মারা যাওয়া বা নিখোঁজ পশু-পাখির পোস্টমর্টেম ও নিষ্পত্তির নথি প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির অগ্রগতি এবং প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা।
গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আমরা ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জাতীয় কৃষক শক্তি বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
Muktomon/TA