ক্রিকেটারদের ইনজুরি থেকে মাঠে ফেরাতে ফিজিওদের ভূমিকা

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে ক্রিকেটারদের জন্য ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে ক্রিকেটারদের জন্য ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব

মুক্তমন রিপোর্টার : ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়ের সাফল্যের পেছনে প্রতিভা, পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইনজুরি অনেক সময় সেই পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চোটের কারণে শুধু পারফরম্যান্সই ব্যাহত হয় না, দীর্ঘমেয়াদি ইনজুরি একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ও মানসিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘হৃদরোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি’

ক্রিকেটে ফিজিওরা মূলত খেলোয়াড়দের ইনজুরি প্রতিরোধ, চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ক্রিকেটারদের শারীরিক দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করেন তারা।

হ্যামস্ট্রিংয়ের টান, পিঠের চোট, কাঁধের পেশির সমস্যা কিংবা অন্যান্য স্পোর্টস ইনজুরি থেকে দ্রুত ও নিরাপদে ফিরতে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পেশির ভারসাম্য, নমনীয়তা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতেও ফিজিওদের কাজ করতে হয়।

বিশেষ করে বোলারদের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড ও হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই ইনজুরি এড়াতে শরীরের নমনীয়তা ও পেশির শক্তি ঠিক রাখা জরুরি। ফিজিওরা নির্দিষ্ট অনুশীলনের মাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। অন্যদিকে ব্যাটার ও ফিল্ডারদের ফুটওয়ার্ক, দ্রুত মুভমেন্ট এবং ডাইভ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন স্ট্রেচিং ও ফিটনেস প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিজিওদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণেও ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় দলের পেসার শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও মোজাদ্দেদ সানী, খাইরুল ইসলাম ও পারভেজ আহমেদও দিবসটি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়কে ইনজুরি থেকে সুস্থ করে মাঠে ফেরানো থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ চোটের ঝুঁকি কমানো—পুরো প্রক্রিয়াতেই ফিজিওথেরাপিস্টদের অবদান তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।