মোবাইলের আলোতে সিজারের অভিযোগ, সংকটাপন্ন প্রসূতি

চিতলমারীতে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন
চিতলমারীতে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন

মুক্তমন রিপোর্টার : বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর মোবাইলের আলোতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাভলী ঘরামী নামে ওই প্রসূতি বর্তমানে শারীরিকভাবে সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

ঘটনার প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চিতলমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানে বাধা ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে।

লাভলীর স্বামী শমরেস ঘরামীর অভিযোগ, গত ২৭ জুলাই চিতলমারীর হাবিবা ক্লিনিক অ্যান্ড বারিশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে স্ত্রীর সিজার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালু না করে মোবাইলের আলো ব্যবহার করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর অস্ত্রোপচার শেষ হয়। পরে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। অসুস্থ নবজাতককে গোপালগঞ্জের আইসিইউতে নেওয়া হলেও সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়।

শমরেসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার স্ত্রীর অনবরত প্রস্রাব ঝরতে থাকে। পরবর্তীতে খুলনার বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, এসব পরীক্ষায় জরায়ুতে অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতা ও মূত্রথলিতে আঘাতের বিষয়টি ধরা পড়ে।

প্রায় ৩৮ দিন চিকিৎসার পর গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) লাভলীকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে পরিবার।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিবা ক্লিনিকের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার অমিত মন্ডল। তিনি বলেন, তিনি ওই রোগীর অস্ত্রোপচার করেননি; সিজার করেছেন চিকিৎসক নাসির উদ্দীন। ক্লিনিকের পরিচালক সাব্বির আহম্মেদ রুপমও প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম নেই বলে দাবি করেছেন।

চিকিৎসক নাসির উদ্দীন অস্ত্রোপচারের বিষয়ে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে রোগীর চিকিৎসায় সহযোগিতার কথা জানান।

এদিকে ঘটনায় সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, অপচিকিৎসা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।