মানবতার রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যানের

গুলশানে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের কার্যালয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত।
গুলশানে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের কার্যালয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত।

মঈনউদ্দিন মনি : বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মানবতাবিধ্বংসী আখ্যা দিয়ে ভেতর-বাইরের সব অপশক্তি মোকাবিলা করে মানবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে সংগঠনটির কার্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একমাত্র ইনসানিয়াত বিপ্লবের আদর্শের মাধ্যমেই সারা বিশ্বে মানবতার রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, প্রাণাধিক প্রিয়নবীর নির্দেশিত জীবনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সত্য ও জীবনের প্রকৃত বিজয় অর্জন সম্ভব। পৃথিবীকে সব মানুষের জন্য স্রষ্টার দেওয়া নিজস্ব দেশ ও আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের জীবন ও মানবতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, জীবনের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এক বিষয় নয়। মানুষের জীবনের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। জীবনের স্বাধীনতাকে ভিত্তি করেই রাষ্ট্রের প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

বক্তব্যে তিনি ইতিহাস, রাষ্ট্রবিভাজন ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, শুধু রাষ্ট্রের সীমানা পরিবর্তন বা নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা যথেষ্ট নয়। এসব পরিবর্তনের পেছনে কোন রাজনৈতিক আদর্শ ও মতবাদ কাজ করেছে এবং তা মানুষের জীবন ও মানবতার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা মূল্যায়ন করা জরুরি।

আল্লামা ইমাম হায়াতের ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিনকে বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হলেও এসব ঘটনার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মানবতার দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বস্তুবাদী জাতীয়তাবাদভিত্তিক রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে মানুষের ঐক্য ও মানবিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

রাষ্ট্রকে কোনো একক ধর্ম, মতবাদ, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অধিবাসী সব মানুষের। রাষ্ট্রে সবার অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একক গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলে সাধারণ মানুষের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রাষ্ট্রবিভাজনের প্রভাব মানবতার মানদণ্ডে বিচার করা প্রয়োজন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ঘটনাকে ঘিরে তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বিভাজনের কারণে উপমহাদেশের মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশের মানুষের জীবনের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ধরনের অপশক্তি এবং রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য মানবতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক তুলে ধরে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মানবিক পরিবেশ ও মানবাধিকার নিশ্চিত না হলে ধর্ম পালনও কঠিন হয়ে পড়ে। একজন মুসলিমের ঈমানি বিবেচনার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও থাকতে হবে। একইভাবে সব মানুষের উচিত মানবতার পক্ষে থাকা এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করতে হবে। মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবিক মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যান বলেন, প্রাণাধিক প্রিয়নবীর নির্দেশিত জীবনের স্বাধীনতা, মানবতার রাষ্ট্র ও মানবিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সত্য ও জীবনের প্রকৃত বিজয় সম্ভব। পৃথিবীর সব মানুষ যেন নিজেদের স্রষ্টাপ্রদত্ত অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

 চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

Muktomon/TA