ঢাকায় জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা

ঢাকায় জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলার উদ্বোধন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।
ঢাকায় জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলার উদ্বোধন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।

মুক্তমন রিপোর্ট : নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তাঁদের সাফল্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সামিটের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে। এতে পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিং, উদ্যোক্তা আড্ডা, সেমিনার, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন এবং সফল নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়া হবে।

শিল্পসচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য মো. নূরুজ্জামান এনডিসি। সামিটের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাজিম হাসান সাত্তার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মসূচিগুলো গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রচার-প্রচারণায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে। নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা একই সঙ্গে একজন মা। তাঁরা এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে।

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তার সাফল্য অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা ও পথপ্রদর্শক হতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ঋণপ্রাপ্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

আয়োজকেরা জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও অর্থায়ন, বাজারসংযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, মানসম্মত পণ্য তৈরি ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষাও অনেক উদ্যোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এসব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী মেলায় প্রায় ৬০ জন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, হস্তশিল্প ও কারুশিল্প, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, গৃহসজ্জা ও লাইফস্টাইল পণ্য, জুয়েলারি, প্রসাধনী, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য এবং ডিজিটাল ও সৃজনশীল সেবা। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সামিটে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সুপারশপ ও রিটেইল চেইন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ডিস্ট্রিবিউটর, পাইকারি ক্রেতা, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড এবং রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জ, অর্থায়ন, বাজার তৈরি, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন ব্যবসা এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে উদ্যোক্তা আড্ডা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। উদ্যোক্তাদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার গুরুত্ব নিয়ে থাকবে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন।

সামিটে নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচজন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শ্রেণিভুক্ত। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে। এখানে কর্মরত রয়েছেন ৩ কোটিরও বেশি মানুষ।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী হয়েছেন প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

Muktomon/TA