মত প্রকাশ

ঢিস্কিয়াও- ঢিস্কিয়াও

আহমেদ সাহাব :

জগলু আর ভ্যালা হাসি হাসি মুখ করে এসে বললো- “ভাই ভোট দিবেন কারে?”
তাদের বসতে দিয়ে, বউকে ডেকে বললাম চা বানাতে।
ভ্যালা আমার পাশের চেয়ারে বসছে। জগলু দাঁড়িয়ে, উত্তরের অপেক্ষায়।
হাতে পত্রিকা মেলে ধরতে ধরতে, না তাঁকিয়ে বললাম- “ধানের শীষে, তোরা ?
জগলু: জাশিকে, দাঁড়ি পাল্লায়।
বললাম- ওরা তো রাজাকার।
জগলু: তাতে কি! দুর্নীতিবাজ তো না ।
: দুর্নীতিবাজ না কিন্তু রাজাকার।
: জাশি একটা ডিসিপ্লিন্ড সংগঠন। দলীয় কোন্দলে খু”নাখুনি করেনা। সেইফটি আছে।
: বাট দে আর ব্লাডি রাজাকার।
: ভাই, প্রতিষ্ঠান সফল হয় চেইন অব কমান্ড থাকলে। জাশিতে ওইটা আছে। একে অপরকে মানে। তাদের সবকডা প্রতিষ্ঠান সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত। বলা যায় দেশও প্রতিষ্ঠিত অইবো।
: হোক, কিন্তু দিনশেষে ওরা রাজাকার।
: ওদের মধ্যে চাঁ দাবাজি, লু টপাট নাই।
: কিন্তু ওরা রাজাকার।
জগলু কিঞ্চিৎ চুপ করে থেকে বললো- “ভ্যালা গেছিলো আর্মিতে ভর্তি হইতে। পরীক্ষক জিগায়- “ধরো লড়াই করতেছো শ ত্রুর লগে। হঠাৎ দেখলা তোমার বন্দুকে গু লি নাই। পিছে যাইতে পারতেসো না। গু লিও করতে পারতেসো না, তখন কি করবা?”
আমি ভ্যালার দিকে চাইলাম। বললাম-‘কিরে, কি জবাব দিয়েছিলি?”
ভ্যালা কণ্ঠে উচ্ছ্বাস ভরে, মুচকি হাসি দিয়ে বললো- ” গুলি শেষ অইলে, বন্দুক তাক কইরা, মুখে কমু “ঢিস্কিয়াও- ঢিস্কিয়াও।”
এটিচ্যুড বজায় রাখতে, হালকা হেসে জগলুর পানে চাইলাম। মন্তব্যের আশায়-
বললো-
“রাজাকার” নামক বন্দুকের গু লি শ্যাষ কইরা দিয়া গেসে হাসিনা আগেই। যারা আছিলো, সবাই কবরে। এখন আর ব্লেইম দিবার কিছু নাই। তাই ভ্যালার মতো আফনেরা ঢিস্কিয়াও- ঢিস্কিয়াও জপতেছেন! পুরাই ফাও! মাইনষে এসব ফালতু আওয়াজে আর ডরায় না।
: মানুষ বেআক্কেল। কিন্তু আমি না। রাজকারকে ভোট দেব না, ব্যস!
: বেআক্কেল কে, ওইটা তো দেখতেসিই!
: অ্যা! কি বলিস মিনিমিন করে?
: ভা রত জাশিকে একমাত্র শ ত্রু মনে করে। জাশি ক্ষমতায় এলে ওদের আধিপত্য কমবে, নিশ্চিত!
আমি আগের মতোই, পত্রিকার পাতায়, চোখ রেখে, নিরুৎসুক ভঙ্গিতে বললাম-” লাভ কি, ওরা তো রাজাকার।”
: ওদের কর্মীরা যোগ্য ও দক্ষ। খাইটা খায়। কাজ করে। ব্যবসা করে। মানুষ ঠকায়ে খাইবার দরকার পড়বে না। ফলে, চাঁ দাবজি, লু টপাট হবে না।
: সে যাইহোক, রাজাকার তো রাজাকারই।
: ব্যাংক লুট কইরা সম্পদ পাচারের রেকর্ড নাই জাশির বিরুদ্ধে। ঋণ খেলাপি নাই। ওরা বেটার।
: তাতে কি! ওরা রাজাকার।
: ওদের মেজরিটি প্রার্থী শিক্ষিত। আলাপ দিতে জানে। বুঝে ভালো। অন্যদের মতো পয়সা দিয়া অঙ্গল- জঙ্গল নেতা হইতে পারে না। কোয়ালিটি আছে কোয়ালিটি। অন্যদের মতো ইয়াবা ব্যবসায়ী, ভূমি খেকো, টেন্ডারবাজ প্রার্থী নাই। ওই হালগো দেখতেই তো চোর চোর লাগে!
: যাই লাগুক! জাশির মতো রাজাকার তো না।
জগলু আমার একঘেয়েমি উত্তর শুনে শুনে বিরক্ত হচ্ছিলো, না তাঁকিয়েও টের পাচ্ছি।
স্বর চড়িয়ে বললো-
: তো কি অইসে, “ওরা রাজাকার” এই দোষে কি – দেশের জিডিপি কইমা যাইবো, নাকি পদ্মা সেতু ভাইঙ্গা পড়বো, না আফনের বিচিতে পঁচন ধইরবো?
: এ্যঁই জগলু! বিহ্যভ! কিচ্ছু হবে না! কিন্তু ওরা রাজাকার!
এবার জগলুর মাথা খারাপ অবস্থা! দেখলাম চোখ লাল হচ্ছে। রাগে গজগজ করতেছে। টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে বললো-
: এখন ২০২৬। ৭১ না। ৭১ নিয়া পইরা থাকার মতো কুঁড়েমি আফনেরে মানায় না। অতীত ভুইলা সামনে আগেইতে হবে। অতীত আঁকড়ায় পইরা থাকলে, সামনে আগেইবেন ক্যামনে? আফনেগো মতো কুঁড়া লোকের কারণে দেশটা আগেইলো না আজতক!
এইসব ভগিচগী আলাপ বাদ দিয়া, সামনে দেখেন- দেশের জন্যে কে ভালো, কে মন্দ- ওইটা ভাবেন! রিয়েলিটি সাইড কইরা আবেগ বেইচা খাইবার ভণ্ডামি কোত্থেকে শিখছেন?
জগলুর এরূপ ঔদ্বত আচরণে, ভ্যালা নড়ে চড়ে বসলো। মুখের দিকে তাঁকিয়ে আছে, যেনো সেও জানতে চায় আমি কি উত্তর দেই।
আগের মতো পত্রিকায় চোখ সরিয়ে, নিরস কণ্ঠে বললাম- “অতশত বুঝি না, জাশি রাজাকার।”
“আফনে মেয়া বাল বুঝেন” বলে, জগলু হনহন করে হেঁটে চলে গেলো!
রাগে আমার মাথা ভনভন করছে! ভ্যালা আমার দিকে এখনো তাঁকিয়ে!
বললাম- “দেখলি, জগলুর স্পর্ধা! আমার সঙ্গে কি শব্দ ব্যবহার করলো! জাশির সঙ্গে চলাফেরা করে, কত্তবড় বেয়াদব হয়েছে! ফাজিল কোথাকার! ”
ভ্যালা চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বললো- “আফনেরে তো মেয়া লজিক্যাল লোক বইলাই জাইনতাম। জগলুকে যেই জবাব দিলেন, পুরাই ফালতু ইমোশন! ধান্দাবাজি আড়াল করতে গাঁজাখোররাও এমনে রাজাকার রাজাকার জপ করে না!
এবার আমার মাথা আরও খারাপ। শালারা চাকর হবার যোগ্য না! আমারে বলে গাঁজাখোর!
বললাম- “মুখে সামলে কথা ক, বেয়াদব। জাশির সঙ্গে যোগ দিয়ে, তুইয়ো মনিব ভুলে গেছিস! নেমকহারাম! থাপ্রায়া দাঁত ফেলে দেব। ”
“আফনে আসলেই বাল বুঝেন “- বলে দিলো ভৌ দৌড়!
তব্দা খেয়ে বসে আছি, মাথা ভনভন করছে! আই অ্যাম শেইকিং ফ্রম হেড টু টো উইথ এঙ্গার! যুক্তি- ওযুক্তি চিন্তার সময় নাই। দরকার হইলে অতীতেই পড়ে থাকব। গোয়ার্তুমি হইলে গোয়ার্তুমি! বেয়াদবরা যেখানে ভোট দিবে, আমি ওখানে দেব না বলে, পত্রিকা ছুঁড়ে ফেলতেই দেখি বউ চা নিয়া দরজায় দাড়ায়া আছে। ঝাঁজের সঙ্গে বললাম-“দাও চা দাও। একলাই তিনটা খাবো। ”
বউ ভেংচি কেটে, চা না দিয়ে, ট্রে নিয়ে অন্দর মহলে যেতে যেতে বললো- রাজাকার রাজাকার জপতে থাকেন, চায়ের তৃষ্ণা মিটে যাবে। ”
হ্যাহ! হোয়াট দ্যা হেক! বলে কি!
বউয়ের অবজ্ঞায় বুকের মধ্যে বেদনার সঞ্চার ঘটতে যাবে, তখনি মনে পড়লো, সেদিন দুইটা হিজাবি নারী বাসায় এসেছিলো!
হাঁক ছেড়ে জিজ্ঞেস করলাম- “ঐদিন যে বোরখা পরে মহিলা দুইটা আসছিলো, ওরা কি জাশির ছাত্রী সংস্থার? মাথা তো দেখি তোমারটাও ওয়াশ করে দিয়ে গেছে!
ভেতর থেকে জবাব এলো- ঢিস্কিয়াও, ঢিস্কিয়াও।
পুরাই ভক্সদ হয়ে বসে আছি……
গল্প: ঘরের শত্রু বিভীষণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button