যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার পর দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার পর দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা।

মুক্তমন রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ত্যাগ করেন। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতার কারণে তাঁরা দোহা ছেড়ে যাননি বলে বৈঠক সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। খসড়া প্রস্তাবটির বিস্তারিত অবশ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে তেহরানের তৈরি সাত দফার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে তৈরি ওই পরিকল্পনা সমঝোতা চুক্তির আওতায় আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

বাঘাই বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা আদান-প্রদান সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।

ইরানের দাবিগুলো তুলে ধরে বাঘাই বলেন, সেগুলো স্পষ্ট, স্বচ্ছ, যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবিগুলোর প্রতি সম্মান এবং দেশটির প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে না। এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সাত দিনের যে পরিকল্পনা ছিল, তা কমিয়ে দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

এর আগে ইরানের দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সংঘাত আবারও বাড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই সর্বশেষ দফার কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নতুন যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, তেহরান মনে করে না যে নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো দেশে পরিণত হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র এবং তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি।

সূত্র : রয়টার্স

Muktomon/TA