জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মুক্তমন রিপোর্ট : প্রযুক্তিভিত্তিক, মেধানির্ভর ও জ্ঞানসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উদ্ভাবনী গবেষণা এবং মেধার বিকাশ ঘটানো জরুরি।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির চর্চা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ সুগম হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। এ ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’ নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশ শুধু ভূখণ্ড বা পতাকার পরিচয় নয়; এর সঙ্গে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার বিষয়টিও জড়িত।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতার প্রচেষ্টা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমান ক্যাম্পাসের পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধাসংবলিত নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়েও সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও গবেষণামুখী শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী জনশক্তি তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করতে হবে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে উদ্ভাবনী ধারণা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক জনবল তৈরির বিকল্প নেই।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র‍্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।

Muktomon/TA