এফবিসিসিআই-এর জেনারেল বডি সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব

এফবিসিসিআই-এর জেনারেল বডি সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব

মোহাম্মদ জমসের আলী : এফবিসিসিআই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের শীর্ষ জাতীয় সংগঠন। দেশের ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ, নীতি নির্ধারণ এবং সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এফবিসিসিআই-এর জেনারেল বডির সদস্যদের যোগ্যতা, সততা, ব্যবসায়িক পরিচয় ও পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে জেনারেল বডির সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, নৈতিক যোগ্যতা, সুনাম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরও সুস্পষ্ট ও একক নীতিমালা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই-এর যৌথ উদ্যোগে একটি সুনির্দিষ্ট আইন/বিধিমালা বা যোগ্যতা-নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে—কারা এফবিসিসিআই-এর জেনারেল বডির সদস্য হতে পারবেন এবং কারা সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
১. ন্যূনতম শিক্ষাগত  যোগ্যতা: জেনারেল বডির সদস্য       হওয়ার জন্য ন্যূনতম এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই যোগ্যতা আরও উন্নীত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
২. সদস্যকে বাংলাদেশে বৈধ ও সক্রিয় ব্যবসা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে এবং তার ব্যবসায়িক পরিচয়ের যথাযথ প্রমাণ থাকতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে TIN, BIN, কোম্পানি নিবন্ধন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে।
৪. সদস্যের ব্যবসা বাস্তবে পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং তিনি প্রকৃত ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা কি না—তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৫. গুরুতর নৈতিক স্খলন, প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থপাচার, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অনুরূপ গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত ব্যক্তি সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
৬. সদস্যের ব্যবসায়িক সুনাম, সততা, পেশাগত আচরণ এবং ব্যবসায়ী সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনার জন্য একটি স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া থাকতে হবে।
৭. মাদকাসক্তি বা অন্যান্য আচরণগত সমস্যার অভিযোগ থাকলে তা গুজবের ভিত্তিতে নয়; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।
৮. সদস্য হওয়ার জন্য ন্যূনতম ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যাতে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা জাতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।
৯. সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত প্রভাব বা আর্থিক ক্ষমতার পরিবর্তে ব্যবসায়িক যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও প্রতিনিধিত্বের সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১০. সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নের সময় একটি স্বচ্ছ যাচাই ও ঘোষণা (Declaration) ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে সদস্যপদ বাতিলের বিধান রাখা যেতে পারে।

আমাদের মূল উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বাদ দেওয়া নয়; বরং এফবিসিসিআই-এর মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী করা।

তাই আমরা আশা করি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতামত নিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত “General Body Membership Eligibility Policy” প্রণয়ন করবে। এর মাধ্যমে এফবিসিসিআই-এর জেনারেল বডিতে প্রকৃত ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং দেশের সর্বোচ্চ ব্যবসায়ী সংগঠনের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

লেখক : সভাপতি , লুব্রিকেন্টস ইম্পোর্টার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (লিয়াব)।
পরিচালক , ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি।