রনজিৎ সরকার রাজ : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আদালতের নির্দেশে এক ভ্যানচালকের বসতবাড়ি উচ্ছেদের পর ওই জমিতে পুকুর খনন শুরু করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উচ্ছেদের সময় তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে চার শিশুসহ ছয় সদস্যের পরিবারটি গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তবে আদালতের ডিক্রি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিযুক্ত পক্ষ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ক্লিনিকপাড়া এলাকায় এ উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে ওই জমিতে স্কেভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী মাজেদুলের পরিবারের দাবি, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করে আসছেন তারা। কোনো নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। বাড়িঘর হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে এবং রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকছেন।
মাজেদুলের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা, তাঁর ছেলে হারুন অর রশিদ হারুন এবং তাঁদের লোকজন বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ও তাঁর ছেলে হারুন অর রশিদের দাবি, শিবরামপুর মৌজার ২০২০ দাগের সাড়ে ১২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা হয় এবং তাঁরা আদালতের ডিক্রি পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর জমিতে পুকুর খনন শুরু করেছেন বলে জানান তাঁরা। তবে প্রতিবেদকের কাছে তাঁরা ডিক্রির কাগজ দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে আদালতের নাজির তোফায়েল হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে তিনি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাবলে সাড়ে চার শতক জমির ওপর থাকা বাঁশের বেড়া ও টিনের চালাযুক্ত তিন-চারটি ঘর উচ্ছেদ করে বাদীকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। ওই জমিতে পরে পুকুর খনন করা হবে, নাকি অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া বসতবাড়ি উচ্ছেদ আইনসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল হোসেন বলেন, চাকরিজীবনে তিনি এ ধরনের বহু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং সেসব ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়নি বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আদালত কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান ও পুলিশ সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য যাদব কুমার অধিকারীসহ কয়েকজন গ্রামবাসী উচ্ছেদ অভিযান ও পরদিন ওই জমিতে পুকুর খননের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমির মালিকানা, উচ্ছেদের প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে পুকুর খননের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
দিনাজপুর প্রতিনিধি
Muktomon/TA