মুক্তমন রিপোর্ট : ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ রয়েছে, কিন্তু গ্রাহকের হিসাবে সেই টাকা জমা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখার অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাখাটির জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তিনি তিন দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা ব্যাংকে জড়ো হন। অনেকেই তাঁদের কাছে থাকা টাকা জমার রসিদ নিয়ে ব্যাংকে হিসাব যাচাই করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারাও ব্যাংক পরিদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের হিসাবে মোট প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা হয়নি। একইভাবে আরও শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও তাঁরা দাবি করছেন। তবে মোট কতজন গ্রাহকের টাকা জমা হয়নি এবং অর্থের পরিমাণ কত—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, শরিফুজ্জামান তাঁদের পরিচিত কয়েকজনকে তাঁর মাধ্যমে এফডিআর করলে ১১ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর কয়েকজন তাঁর মাধ্যমে টাকা জমা দেন এবং তাঁদের রসিদও দেওয়া হয়। পরে ব্যাংকে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে ওই অর্থের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে জুথি আক্তার সাত লাখ, জাকিয়া সুলতানা সাত লাখ এবং নাছির হাওলাদার ১৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী রোজিনা বেগমের ২৭ লাখ এবং স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ৮১ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে এসব অর্থ পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের দাবি।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। গ্রাহকদের হাতে থাকা রসিদ, ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে রসিদের সঙ্গে হিসাবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, সেসব নথি রাখা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রকৃত ঘটনা ও অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরিফুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপকের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
অগ্রণী ব্যাংক মুন্সিগঞ্জ শাখার জোনাল হেড মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, শরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অডিট টিম এসে বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Muktomon/TA