মুক্তমন রিপোর্ট : পঞ্চগড়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তবে তাদের কেউই পঞ্চগড়ে অবস্থানকালে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি বলে জানিয়েছে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকায় অবস্থান বা যাতায়াতের সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পঞ্চগড়ে ফিরে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনাক্ত ৬৯ রোগীর মধ্যে ৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য দুজন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া ভারত থেকে আসা একজন ব্যক্তির শরীরেও ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সদর উপজেলার হাড়িভাসা এলাকার ইসমাইল হোসেন (৩৫) ঢাকায় বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মশার কামড়ের পর জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা শুরু হলেও প্রথমে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। পরে পঞ্চগড়ে ফিরে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একইভাবে সদর উপজেলার ফুটকিবাড়ি এলাকার আইনুল (২৯) ঢাকার কোনাবাড়ীতে একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করেন। ঢাকায় জ্বর হওয়ার পর পঞ্চগড়ে ফিরে পরীক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লিখন (১৯) ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। ঢাকায় থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তিনি পঞ্চগড়ে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হন।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, বর্তমানে পঞ্চগড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। আক্রান্তরা বাইরে থেকে ডেঙ্গু নিয়ে পঞ্চগড়ে এসেছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টবসহ যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান এই চিকিৎসক।
ডেঙ্গু শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
Muktomon/TA