মুক্তমন রিপোর্ট : ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে ৫০০ সনাতনী নারীর হাতে পূজার উপহারসামগ্রী তুলে দেন মেয়র। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার মূল লক্ষ্য হলো সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মেয়র বলেন, নগরীতে সুন্দর পরিবেশে পূজা উদ্যাপন শুরু হয়েছে। পূজামণ্ডপে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং স্বাভাবিক জনচলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চসিকের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করছেন।
তিনি জানান, নগরীর আন্দরকিল্লা ও দেওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৬টি থানার অধীন ২৯৪টি পূজামণ্ডপে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে পাঁচ লাখ টাকা, চসিক পূজা উদ্যাপন পরিষদের জামালখান এলাকার কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপে ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি করপোরেশনের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এখানে সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘রেইনবো সিটি’ গড়ে তোলার অর্থ এমন একটি নগরী তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেকে নিরাপদে চলাচল, ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এ জন্য নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
এ সময় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁর চট্টগ্রাম আগমন অত্যন্ত আনন্দের। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, গিয়াস উদ্দিন ভুঁইয়া, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব সেন, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম সম্পাদক বাবু দত্ত, কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সহসভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল ও প্রশান্ত কুমার পান্ডেসহ অনেকে।