১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’২৬’ সম্পন্ন

ঢাকায় ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’২৬’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ঢাকায় ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’২৬’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অধ্যয়ন, সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠন এবং তরুণদের মধ্যে সীরাতচর্চা বিস্তারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ‘রোড টু সিরাহ’২৬’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ১০০ নম্বরের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৩টায় একই স্থানে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ আল্লামা কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি) এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘রোড টু সিরাহ’২৬’ প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে মোট ১৩ হাজার ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ‘ক’ গ্রুপে ৩ হাজার ৫৮২ জন, ‘খ’ গ্রুপে ৩ হাজার ১৯৭ জন এবং ‘গ’ গ্রুপে ৫ হাজার ২৪৩ জন নিবন্ধন করেন।

প্রথম ধাপের অনলাইন এমসিকিউ পরীক্ষার পর ‘ক’ গ্রুপ থেকে ২২১ জন, ‘খ’ গ্রুপ থেকে ২০৮ জন এবং ‘গ’ গ্রুপ থেকে ২০৬ জনসহ মোট ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

‘ক’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেন বরিশাল বিভাগের খাদিজা তুবান শারা। তিনি ৬০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, বই, ক্রেস্ট ও সনদ লাভ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান বিশেষ ঘোষণা দিয়ে খাদিজা তুবান শারাকে তাঁর পিতার সঙ্গে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

‘খ’ গ্রুপে প্রথম হন ঢাকা বিভাগের রঈসুল ইসলাম। তিনি ওমরাহ পালনের সুযোগ, বই, ক্রেস্ট ও সনদ লাভ করেন। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেন রাজশাহী বিভাগের আতিয়া বিলকিস তামান্না। তিনিও ওমরাহ পালনের সুযোগ, বই, ক্রেস্ট ও সনদ পান।

দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের মধ্যে ‘ক’ গ্রুপে ঢাকা বিভাগের তালহা যুবায়ের, ‘খ’ গ্রুপে ঢাকা বিভাগের মাসরাত জাহান ইফতি এবং ‘গ’ গ্রুপে ঢাকা বিভাগের শামিম আহমেদ সবুজ রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকে ল্যাপটপ, বই, ক্রেস্ট ও সনদ লাভ করেন।

তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ‘ক’ গ্রুপের চট্টগ্রাম বিভাগের নাবিল বিন হোসাইন, ‘খ’ গ্রুপের ঢাকা বিভাগের হামিম আহমাদ এবং ‘গ’ গ্রুপের রাজশাহী বিভাগের মো. নীরব আলী। তাঁরা প্রত্যেকে ২৫ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, বই, ক্রেস্ট ও সনদ পান।

এ ছাড়া তিনটি গ্রুপে চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা এবং একাদশ থেকে পঁচিশতম স্থান অর্জনকারীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণ প্রথম পাঁচজনকেও বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়।

বিশেষ পুরস্কার হিসেবে ‘ক’ গ্রুপে ১৯তম স্থান অর্জনকারী ময়মনসিংহ বিভাগের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে তাঁর মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির স্বীকৃতি হিসেবে পিতার সঙ্গে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সমগ্র বিশ্বজাহান ও সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনার জন্য তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অতীতে যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ধারণ করেছে, তারা সম্মানিত হয়েছে এবং নেতৃত্ব দিয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর বিপর্যয় ও অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.)-এর দেখানো পথ থেকে সরে যাওয়া।

প্রতিযোগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সীরাতচর্চা যেন শুধু পুরস্কার বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং এটি যেন তাদের জীবনে আলোকিত পথচলার সূচনা করে এবং অর্জিত জ্ঞান মানবতার কল্যাণে কাজে লাগে।

সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, সীরাত পাঠের উদ্দেশ্য শুধু পুরস্কার বা সনদ অর্জন নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ধারণ করা।

তিনি বলেন, রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

আল্লামা কামাল উদ্দিন জাফরী বলেন, মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা। তিনি দৈনন্দিন জীবনে রাসূল (সা.)-এর সীরাত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

মাওলানা জয়নুল আবেদিন বলেন, কোরআন ও রাসূলের জীবনাদর্শের মধ্যেই মানবজাতির দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাই সীরাত অধ্যয়ন করে তার আলোকে জীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, সীরাতচর্চা কোনো নির্দিষ্ট মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাসূল (সা.)-এর সামগ্রিক জীবনকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁর চরিত্র ও নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ওলামায়ে কেরাম, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।