মুক্তমন রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতির তিন দিনের মাথায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এতে রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রিয়াজান ও সারাতোভ অঞ্চলের দুটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়। সারাতোভে হামলা প্রতিহত করা হলেও রিয়াজানের শোধনাগারটিতে ড্রোনের আঘাতে আগুন ধরে যায়।
রিয়াজানের গভর্নর পাভেল মালকভ জানান, ড্রোন হামলায় স্থানীয় আরেকটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও বেশ কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মালকভ বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। জরুরি সেবার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন।
গত ১১ অক্টোবর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেন ভবিষ্যতে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি দুই পক্ষকে এই সমঝোতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন হামলা বন্ধ রাখলেও রাশিয়া দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের প্রায় ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
জেলেনস্কি আরও সতর্ক করেন, রাশিয়া হামলা অব্যাহত রাখলে ইউক্রেনও নীরব থাকবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের ধৈর্যের সীমা ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পরও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উত্তেজনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: আরটি, রয়টার্স