যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় চালান পেল তাইওয়ান

তাইওয়ানের বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান।
তাইওয়ানের বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান।

মুক্তমন রিপোর্ট : চীনের বিরোধিতা ও তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় চালান গ্রহণ করেছে তাইওয়ান। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে তিনটি যুদ্ধবিমান দেশটির তাইতুংয়ের চিহহাং বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

তাইওয়ানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তাইপেভিত্তিক সেন্ট্রাল নিউজ। দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় লকহিড মার্টিনের কারখানা থেকে বিমানগুলো যাত্রা শুরু করে। 

ফিনিক্স রাইজিং কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এবং তাইওয়ানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন যৌথভাবে ১৪০টি এফ-১৬এ/বি যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন করে এফ-১৬ভি ব্লক ২০ সংস্করণে উন্নীত করেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এসব বিমানের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়।

এই আধুনিকায়ন কর্মসূচির বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন ৬৬টি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিও রয়েছে তাইওয়ানের। ২০১৯ সালে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের এ চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন যুদ্ধবিমান কেনার এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাইওয়ান প্রথম দুটি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা জানায় চীন।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার নিজেদের স্বশাসিত অবস্থান ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন যুদ্ধবিমান পাওয়াকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনা তাইপে ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র : আনাদোলু

Muktomon/TA