মুক্তমন রিপোর্ট : কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে বাস্তবায়নাধীন মেগাপ্রকল্পগুলোর সুফল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে মাতারবাড়িতে সরকারের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতি ও সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মুখ্য সচিব। নৌপথে মহেশখালী পৌঁছালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ তাঁদের স্বাগত জানান।
পরিদর্শনকালে মুখ্য সচিব চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি, বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ঘুরে দেখেন। পরে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, উন্নয়নের সুফল বণ্টন এবং এলাকার আর্থসামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, মাতারবাড়িতে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও অবকাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উন্নয়নের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন এবং প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরি এবং যোগ্যতা অনুযায়ী স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার দিলে এলাকার মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
জবাবে মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান সরকার স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণকে বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মাতারবাড়িতে গড়ে ওঠা বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সুফল যেন শুধু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগণও যেন সরাসরি উপকৃত হন, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের পরিকল্পনার অংশ।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মাতারবাড়িতে বৃহৎ অবকাঠামো ও শিল্পভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মহেশখালীসহ কক্সবাজারের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে। তবে এ উন্নয়নকে টেকসই ও জনবান্ধব করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, পুনর্বাসন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জীবনমান পরিবর্তনের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিচালক এবং স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Muktomon/TA