ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম; নিহত ১১, সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চরম সংকট

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত, বন্যায় পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত, বন্যায় পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবহাওয়ার অবনতি এবং বন্যার কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। জেলার ১৫টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে এবং স্রোতে ভেসে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্পিডবোট ও লাইফ জ্যাকেট নিয়ে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসায় কয়েকটি এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্ভোগ কাটেনি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একাধিক অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত থাকায় দুর্গত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উদ্ধার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালী। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি। পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানির কারণে শত শত ঘরবাড়ি, ফসলের জমি, সবজির ক্ষেত ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাতকানিয়ায়। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরের ছাদ বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ ছাড়া ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালীসহ আরও কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হালদা ও শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গতদের জন্য ৭০০ টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ইউনিট সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে।