মুক্তমন রিপোর্ট : নেপালের ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে দেশটির ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক হিসাব; বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজন নিরূপণের পর প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
নেপাল সরকার ইতোমধ্যে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রয়োজন নিরূপণ বা Post-Disaster Needs Assessment (PDNA) করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়ন চলছে। পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হবে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি এটিকে প্রাথমিক অনুমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হয়েছিল, এবারের প্রয়োজন তার চেয়ে কম হতে পারে। তবে বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এখন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। এসব কাজের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য সহায়তা চাওয়া হবে।
সরকারের কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকারের হাতে রয়েছে। তবে পুনর্গঠনের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নেপালের National Disaster Risk Reduction and Management Authority-এর একটি দল বর্তমানে ভোতেকোশি নদীর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন করছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে দুর্যোগের সামগ্রিক মাত্রা নির্ধারণ করা হবে। এরপর ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ PDNA পরিচালনার অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, ঘরবাড়ি, মানুষের জীবিকা এবং সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
প্রাথমিক সরকারি হিসাবে, প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান গুণখর ভট্ট জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় কমিশনই পূর্ণাঙ্গ PDNA প্রস্তুত করবে—এ বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতির কারণে বিস্তারিত প্রয়োজন নিরূপণের কাজ চলছে।
সরকারের মূল্যায়ন শেষ হলে উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার আবেদন জানানো হবে।