নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-তে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘অটোমেক ২.০’। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
শুক্রবার আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সমন্বয় কমিটি ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আইইউটির ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুজ্জামান তানভিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আইইউটির শিক্ষার্থী মীর মোজাম্মেল হোসেন নাইম, জোবায়ের আলম সাকিব ও মুবতাসিম রহমান মাহিনকে স্মরণ করেন তিনি।
নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সংগঠক উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ওই সময় শ্রমিকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার সমন্বয়কের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই পরিবহন খাতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অটোমেক ২.০’ একটি সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রযুক্তি আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উৎসব নতুন প্রজন্মকে বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তি চর্চা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করবে।
সফল আয়োজনের জন্য আইইউটি কর্তৃপক্ষ, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং আইইউটি অটোমোবাইল সোসাইটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, আইইউটি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় ‘অটোমেক ২.০’ শুধু একটি প্রযুক্তি উৎসব নয়; বরং এটি নতুন ধারণা বিকাশ, গবেষণায় আগ্রহ সৃষ্টি এবং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ দেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, উৎসবের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রকল্প প্রদর্শনী, প্রকৌশল নকশা, রোবোটিক্স, ইঞ্জিন সংযোজন, সিমুলেশন এবং অটোমোবাইলভিত্তিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আজকের ছোট ছোট উদ্ভাবনী ধারণাই ভবিষ্যতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যুগান্তকারী গবেষণা এবং নতুন কর্মসংস্থানের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও দৃঢ় সংকল্প বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে পারে।
এ জন্য মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, “উদ্ভাবনই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি এবং মেধাবী মানবসম্পদই উদ্ভাবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।” ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গ্রহণে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব ইতিহাসের বিভিন্ন যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন বিপ্লব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে রয়েছে। তাই প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শেখার পথ কখনো থামিয়ে দেওয়া যাবে না। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একজন প্রকৌশলীর প্রকৃত সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেই জ্ঞান মানুষের জীবন ও সমাজে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তার মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আইইউটির উপাচার্য, শিক্ষক, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, আইইউটি অটোমোবাইল সোসাইটি, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, পৃষ্ঠপোষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধান অতিথি।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইইউটির শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘অটোমেক ২.০’ নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথ সুগম করবে।