নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। জনগণের এ রায় অস্বীকার করে ক্ষমতাসীন দল দ্বিচারিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “গণভোটের গণরায় না মানলে সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে গণরায় মেনে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সব রাজনৈতিক দলের জন্য কল্যাণকর হবে এবং কোনো একক দলের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না।”
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখার ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশে কর্তৃত্ববাদ ও নতুন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজউদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, রংপুর মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, সহকারী সেক্রেটারি আল-আমীন হাসান, দিনাজপুর জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ এবং রংপুর মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য নেতারা।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী নবী-রাসুলদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব দাওয়াতের কাজ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে দলটির অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে জনশক্তিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াত শুদ্ধভাবে শেখার পাশাপাশি এর অর্থ অনুধাবন করে ব্যক্তিজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে নৈতিকতা ও তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আদর্শ চরিত্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগ করে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, দলটির বহু নেতাকর্মী কারাবরণ, নির্যাতন, চাকরি হারানো ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার পরিচালনায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী গঠনমূলক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে। তবে দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দলটি সংসদে সমালোচনা এবং রাজনৈতিক মাঠে প্রতিবাদ জানাবে।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।