নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ টানপাড়াকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে নবগঠিত নির্বাহী কমিটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসাইন মৃধা।
সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ ইকবাল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সুন্দর আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা নয়; আমরা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ থাকবে।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জনসচেতনতা কার্যক্রম, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নিকুঞ্জ টানপাড়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কার্যত বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। গত প্রায় ১৫ মাস ধরে এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমেছে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে।
জাহিদ ইকবাল বলেন, “এবার আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য নিকুঞ্জ টানপাড়াকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ আপসহীন। প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার, তরুণ ও সচেতন নাগরিককে এ সামাজিক আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।”
তিনি জানান, শিগগিরই মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, অভিভাবক সমাবেশ এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের অংশগ্রহণে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় নিকুঞ্জ টানপাড়ায় নানা নাগরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তরুণদের শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি পদ-পদবীতে নয়; বরং জনগণের আস্থা, পারস্পরিক ঐক্য এবং ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থেকে নাগরিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে কাজ করবে।

সভায় সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার, সহসভাপতি প্রিন্সিপাল মো. মিসবাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল আমিন মজুমদার (ঝিন্টু), দপ্তর সম্পাদক ডা. আতিকুর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক আমির হোসেনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি প্রায় তিন দশক ধরে এলাকাভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত এলাকা গড়ে তোলা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত এবং অবৈধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংগঠনটি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ে তোলার উদ্যোগ সফল হবে এবং এলাকাটি রাজধানীর অন্যান্য আবাসিক এলাকার জন্য একটি কার্যকর সামাজিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।