নিজস্ব প্রতিবেদক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা পণ্যগুলোর শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ২ কোটি টাকারও বেশি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ পর্যবেক্ষণের সময় মালিকবিহীন অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ শনাক্ত করা হয়। পরে ব্যাগগুলো তল্লাশি করে ‘মন্ড’ ব্র্যান্ডের ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
একই সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা জানিয়েছে, জব্দ করা সিগারেটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স বিবেচনায় এসব সিগারেটের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।
অভিযান চলাকালে একই ফ্লাইটে আসা যাত্রী তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে তার পাসপোর্ট যাচাই করে শুল্ক গোয়েন্দারা জানতে পারেন, গত ১০ জুন তিনি একই পাসপোর্ট ব্যবহার করে শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার দেশে এনেছিলেন।
ব্যাগেজ রুলস-২০২৫ অনুযায়ী, একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালংকার শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।
উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৫ টাকা। শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা।
এ ছাড়া অভিযানে ১২ কেজি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম জব্দ করা হয়েছে। এসব ক্রিমের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে মোট ১১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। জব্দ করা মদের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।