প্রিন্স কেনো ব্লান্ডার হইলো?

1775444993686
1775444993686

গল্প আসলেও ছিলো কি আর করছে কি সেই বিষয়ে একেবারে খোলাসা করে দিলো প্রিন্স রাইটার।

প্রসঙ্গত প্রিন্স : –
শাকিব খানকে গল্প শোনানোর সময় ক্লাইম্যাক্সের দিকে আমি একটু থেমে গিয়েছিলাম উনি এক্সাইটমেন্টে জাষ্ট উঠে দাড়িয়েছিলেন…বলেন তারপরে…পুরো গল্প শুনো উনি চুপ করেছিলেন পাচ মিনিট।।
৩ দিন পরে আমাকে ডেকে পুরো সিন বাই সিন উনি কিভাবে অভিনয় করবেন দেখাচ্ছিলেন। একবার শুনেছেন গল্প … সব উনার মনে আছে। উনি আপদমস্তক একটা ফিল্ম। আমাকে বলতেন‘‘ ভাই স্ক্রিপ্ট ব্রাশ আপ করতে থাকেন….দেখবেন সেই হয়ে যাবে….
৯০ এর দশকের সেই সময়ের বিভিন্ন গ্যাঙ্গষ্টারদের কাছ থেকে শুনে শুনে…কিছু নিজের চোখে দেখে দেখে গ্যাংষ্টারদের লাইফ নিয়ে এই গল্পটি তৈরী করেছিলাম ২০১৮ সালে … নানারকম ভাবে এর চিত্রনাট্যও লেখা হয়েছিলো…
কিন্তু কে জানতো পরিচালকের মাথায় একটা তুফান ২ ঢুকে িছিলো… এখনতো বুঝি তার মিনিমাম কোন ভিজ্যুয়াল ছিলো না…

শুরু থেকেই সে কনফিউজড ছিলো… একে তাকে ধরে আনতো গল্প শোনানোর জন্য…মোটামুটি ২৫-৩০ জনকে আমি গল্প শুনিয়েছি। নাজিম ভাইতো পুরা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলো। উনি বিরক্তিতে আসতো না। খালি বলতো এই ছেলেতো ভিষণ কনফিউজড….

একদিন আমাকে হায়াত বলে হিরো সবসময় পিয়ানো বাজাবে তার পিয়ানো থেকে গুলি বের হয় এমন একটা জিনিষ করেন। আমি আর নাজিম ভাই হাসা শুরু করলাম। বললাম না না ভাই এটা কইরেন না। লোকে হাসবে….সে খুব কনফিডেন্ট…না না…দেখবেন নতুন কিছু হবে ,,,,

তারপরে আরেকদিন বলে শুনেন আফগানী পাঠান এর সাথে সবসময় মুরগী থাকে। আমি বললাম ভাই – ভিলেন এর হাতে থাকবো মুরগী…এটা হইলো কিছু….তারচেয়ে এখানে সেই সময়ের বিখ্যাত সন্ত্রাসী মুরগী মিলন এর ক্যারেকটারতো ক্রিয়েট করাই আছে। সেখানে দরকারে মুরগী রাখেন…না সে আফগানী পাঠানের কোলে মুরগী রাখবেই….
সেদিন বের হয়ে নাজিম ভাই বললো‘‘ ভাই এই ছেলে সিনেমা বানাতে পারবে?? আমারতো মনে হয় পারবে না…শুধু শুধু এতো ভালো গল্পটা ওরে দিয়ে নষ্ট করলেন। আমার খাটনিও ফাও যাবে…
একদিন বলে সালমান খান শেষ দৃশ্যে ক্যামিও দিবে….
একদিন বলে প্রসেনজিত করবে আফগানী পাঠান….
মানে ফাপর দিয়ে অস্থির বানিয়ে রাখতো….সে আসলে একটা বাবলের মধ্যে ছিলো…সিনেমাতে ছিলো না….

আমরা ড্রাফটের পর ড্রাফট স্ক্রিপ্ট করে যাচ্ছি….তার কোন খোজ নাই…খবর নাই….আগষ্টের দিকে ১০ দিন তাকে ফোনে পাইই না।
১০ দিন পরে ফোন ধরে বলে ভাই মেডিটেশনে গেছিলাম লামা তে। বুঝেন না এতো বড় েএকটা সিনেমা বানবো মাইন্ড সেট করা তো লাগবে…আমি হাসবো না কাদবো বুঝতে পারি নাই…
রেগে গিয়ে বলি ‘‘ স্ক্রিপ্ট লিখে দশ দিন ধরে বসে আছি…আপনার কি মনে হয় আমাদের আর অন্য কোন কাজ নাই। স্কিপ্টটা আল্লারওয়াস্তে পড়েন…ফিডব্যাক দেন….
সে কোন ফিডব্যাক দিতে পারতো না….বলে ভাই পড়তে পারি না স্ক্রিপ্ট মাথা ধরে। নাটকেও হায়াত স্ক্রিপ্ট না পড়ে শ্যুটিং এ চলে আসতো। কিন্তু সিনেমায়তো এসব সম্ভব না।
শেষে একটা সময় আমি হোয়াটস এ্যাপ এ মেসেজও দেই…(স্ক্রিনশট দিছি) কোন খোজ নাই… একটা দৃশ্যের উপরে সে মিনিমাম কোন ফিডব্যাক দিতে পারে নাই…. পুরা স্ক্রিপ্টটা পড়ে তার উপরে লাইন বাই লাইন এর ফুটনোট সে দিতেই পারে নাই….
তারপরে আমি কয়েকজনের কাছে সিনেমার ভবিষ্যত নিয়ে হতাশা ব্যাক্ত করি।
এই কথা শুনে শিরীন সুলতানা বলতে থাকেন মেজবাহ উদ্দীন সুমনকে তো আমি রাখবোই না। তাকে বাদ দিবো…হুট করে শুনি আমি নাকি বাদ…স্ক্রীপ্ট দিলো জাহিন ফারুককে….জাহিনকে বলি ভাই আপনাকে কোন ড্রাফট দিছে কারেকশান করতে….জাহিন বলে ৪র্থ ড্রাফট…আমি হাসতে হাসতে বলি ‘‘ দেখছেন হায়াত স্কিপ্টটাই পড়ে নাই….৪ এর পরে যে আমরা আরো ড্রাফট করেছি তা সে জানেই না…. তাই আপনাকে পুরানো ড্রাফট দিয়ে দিছে….

তারপরে শুনি জাহিন ফারুক বাদ….তারপরে দিলো অনম বিশ্বাসকে….পরে শুনি তার স্ক্রীপ্টও নাকি পছন্দ হয় নাই। তারপরে আরো ২ একজনকে দিয়ে স্ক্রীপ্ট খালি কারেকশান করাচ্ছে। পুরা নিকেতন পাড়াতে এসব নিয়ে হাসাহাসি।

নাজিম ভাই বলে‘‘ আপনি কিছু বইলেন না…চুপচাপ খিচ খেয়ে থাকেন……এই ছেলে এমনিতেও সিনেমাটা বানাতে পারবে না। আপনি কিছু করলে বলবে আপনার কারণে বানাতে পারে নাই…. অার যদি পারে ওর পায়ের কাছে গিয়ে বসে থাকবো।
হইলোও তাই….
শাকিব খানকে সাইন করানোর পর থেকে সে হার্ডলি ২/৩দিন আমার ফোন ধরছে….অহংকারে মাটিতে পা পড়তো না…
দিনরাত শুধু বিভিন্ন খানে ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াতো পরিচালক আর প্রযোজক,…। এসব কিছু বাদ দিয়ে যদি চুপচাপ সিনেমাটা বানাতো…তাইলেও কিছু হতো….
শাকিব ভাই একটা কথা বারবার বলতো ‘‘ আপনারা টীম এক থাকবেন…টীমটা ইউনাইটেড থাকলে সিনেমাটা হয়ে যাবে…শেষের দিকে তো উনি বিরক্ত হয়ে নাকি বলতেন তুমি একা আসো কেনো..? তোমার টীম কই…??
দু:খ লাগতেছে শিরীন সুলতানার জন্য…উনার বারো কোটি…টাকা…ইশশ….জমি বেচে..ধার করে উনি টাকা আনছিলেন…. এখন ৩ কোটি টাকাও পেতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে…
এই সিনেমার জন্য উনি জীবনটা দেয়া বাকি রাখছে…. এই সব ব্লান্ডার হয়েছে আবু হায়াতের জন্য…তার ঘুটনামি আর পাকনামির জন্য এই সিনেমাটা এভাবে ধ্বংস হয়েছে…. সিনেমাতে রাইটাররা হচ্ছে পরিচালকের একটা চোখ….সেই চোখ যদি সে শুরুতেই অন্ধ করে দেয় তাইলে কোনদিনও সে সিনেমাটা দেখবে না….
আফসোস…আমার এতো সুন্দর একটা গল্প’র মৃত্যু…শুধু হাহাকার হয়েই থাকবে আমার কাছে….