রিকশা গ্যারেজে ডিএনসির অভিযান, ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

 ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার
ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

মুক্তমন রিপোর্ট:রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ টানপাড়া জামতলার একটি রিকশা গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবাসহ মো. শাকিল মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দিনের বেলায় রিকশা রাখা ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত ওই গ্যারেজটি সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আড্ডাস্থলে পরিণত হতো। এ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (দক্ষিণ)-এর খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিকুঞ্জ টানপাড়া জামতলার খ-১৩২/২/বি নম্বর রিকশা গ্যারেজ ও আশপাশে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় গ্যারেজের সামনে থাকা শাকিল মিয়াকে তল্লাশি করা হলে তাঁর জিন্স প্যান্টের পকেট থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় হাজার টাকা বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

পরে উদ্ধার করা মাদকসহ শাকিলকে খিলক্ষেত থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ডিএনসির এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১২।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্যারেজটিতে দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যেত। গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা চলত বলেও অভিযোগ তাঁদের। তাঁদের দাবি, এই আড্ডার আড়ালে মাদক কেনাবেচা চলত।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন। গ্যারেজ পরিচালনাকারীসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সন্ধ্যার পর নারী ও শিশুদের চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

এলাকাবাসী বলছেন, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করে অভিযান শেষ না করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং সংশ্লিষ্ট পুরো নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ থাকা সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিতভাবে উদ্বেগের বিষয়। তাই নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান চালানো জরুরি।

ডিএনসির সাম্প্রতিক অভিযানকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, এই অভিযান বিচ্ছিন্ন কোনো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে নিকুঞ্জ টানপাড়া জামতলায় মাদকবিরোধী ধারাবাহিক তৎপরতার সূচনা করবে।